একজন দেশপ্রেমিক ও সচেতন পরোপকারী বেনাপোল কাস্টম কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী ও তাঁর কর্ম পদ্ধতি লন্ডনেও আলোচিত হোল !

0
63

এম আহসানুর রহমান ইমন:: ২৪ ঘন্টা লাইভ ব্যুরো :: বাংলাদেশ :: সারা বিশ্বের কাছে যখন কোভিড-১৯ ভাইরাস অপরিচিত সে সময় একজন দেশ প্রেমিক এগিয়ে এলেন মানুষের মাঝে হাজির হলেন জানালেন সচেতনার বাণী নিয়ে। তিনি বলেছিলেন, “আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে”।

২৯ শে জানুয়ারি ২০২০ বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে, বেনাপোল কাস্টম হাউসে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সচেতনতামূলক সভা করেন। সে সময় করোনা ভাইরাসের কথা জনসাধারনের কাছে ছিল একটা হাস্যকর বিষয়। কিন্তু ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করলো ৮ই মার্চ প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হলো বাংলাদেশে এর পর সবারই জানা সারা বিশ্ব থমকে গেছে এই ভয়ালো ছোয়াছে রোগের কাছে বাংলাদেশে আক্রান্ত এখন ৪৩ হাজার।

জনাব বেলাল হোসাইন চৌধুরীর এই করোনা রেড হুইসেলের কারনে, এখনো পর্যন্ত বেনাপোল কাস্টম হাউজে কোন কর্মকর্তা কর্মচারি আক্রান্তে খবর পাওয়া যায়নি। তাছাড়া এর সুফল পেয়েছে যশোরের বেনাপোল শুল্কভবন ও স্থলবন্দর। সারা দেশে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লেও সুরক্ষিত আছে বেনাপোল ও যশোরের মানুষ। যার অগ্রণী ভূমিকায় এটি সম্ভব হয়েছে তিনি বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী।

সরকারের যুগ্মসচিব পদমর্যযাদার এই কর্মকর্তার উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীও। ইতিবাচক আলোচনা আছে সরকারের বিভিন্ন মহলেও। বৃত্তের বাইরে থেকে গিয়ে কাজ করে পেয়েছেন বিশ্বব্যাঙ্ক পুরুস্কার। বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, চীনের উহানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে গণমাধ্যমে প্রতিনিয়ত এই খবর উঠে আসে। সেই সূত্র ধরে এবং অনলাইনের সাহায্যে বেনাপোল স্থলবন্দরে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেন কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী।

তার উদ্যোগে করোনা মোকাবিলায় করণীয় ঠিক করতে সহকর্মীদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেন। শুল্কভবন ও স্থলবন্দরের সঙ্গে সংশিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, ব্যাংক ও সিএন্ডএফ এর প্রায় দুইশত প্রতিনিধিকে নিয়ে ২৯ জানুয়ারি সচেতনতা সভা করেন। কাস্টমস ক্লাবে এ সভা হয়। তখনো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) বিশ্বে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেনি। হু করোনা নিয়ে সভা করে ৩১ জানুয়ারি।

কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরীর এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গত ২ এপ্রিলে লন্ডনভিত্তিক অনুষ্ঠান টক শো এর সাক্ষাৎকারে, করোনা নিবারণে গত ২০ ফেব্রুয়ারি বেনাপোল শুল্কভবনের নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

এছাড়া এই দুর্যোগে দুস্থ ও দরিদ্র কর্মচারীদের জন্য তহবিল গঠন করে সেই টাকা বিতরণ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের উদ্বুদ্ধ করে গঠিত এই তহবিল থেকে কাস্টম ও বন্দরের সিপাহি, মালি, বাবুর্চি, বলবয়, সেবক সহায়কদের নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। এছাড়া গ্রামে দৈনিক আয় নির্ভর ৬২টি পরিবারের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। বন্দরের দৈনিক আয়নির্ভর ও কর্মহীন ৩ শত পরিবারকে দেওয়া হয়েছে খাদ্যসামগ্রী। এ বিষয়ে জানতে চাইলে? বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘সংক্রমণ ব্যাধির জন্য সীমান্তবর্তী এই এলাকাটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। শুল্কভবন ও স্থলবন্দরের সাথে সম্পৃক্ত আমরা সকলে এখনও সুস্থ আছি।

’কমিশনার বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে কষ্ট হলেও আমাদের ঘরে থাকা উচিত। বাইরে এলে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য বিধির পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব অবশ্যই মানতে হবে। তিনি বলেন, ‘কতদিন পৃথিবীতে আছি জানিনা। করোনা জীবনের সব হিসেব বদলে দিয়েছে। বেঁচে থাকা অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। যতক্ষণ বেঁচে আছি দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। দেশের জন্য কাজ করতে চাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here