প্রকাশ তারিখ: 16/03/2026 | Desk: 24ঘন্টালাইভ :
বাংলায় নির্বাচনী দামামা বাজতেই রাজনীতির নজর এখন পূর্ব মেদিনীপুরের দিকে।

আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যের প্রথম দফার ১৫২টি আসনের সঙ্গেই ভোট হতে চলেছে এই জেলার ১৬টি বিধানসভা কেন্দ্রে। তবে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপত্তার ইস্যুটি।

অতীতে খেজুরি, ভগবানপুর, ময়না কিংবা এগরার রক্তাক্ত রাজনৈতিক ইতিহাস মাথায় রেখে এবার কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন। মূলত ‘সন্ত্রাস’ তকমা মুছে জেলায় স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

সোমবার জেলাশাসক ইউনিস ঋষিন ইসমাইল এক সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ভোট নির্বিঘ্ন করতে প্রতিটি বিধানসভা পিছু একজন করে অবজারভার বা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে।

এই পর্যবেক্ষকরা দ্রুত জেলায় এসে রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। ইতিমধ্যেই আন্তঃরাজ্য এবং আন্তঃজেলা সীমান্তে কড়া নাকা চেকিং শুরু হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রার্থীদের প্রচারের খরচ এবং গতিবিধির ওপর এখন থেকেই কড়া নজরদারি চালাচ্ছে কমিশন।

বর্তমানে বিচারাধীন ভোটারদের বাদ দিয়ে বুথ সংখ্যা নির্ধারিত হলেও, জেলাশাসক আশ্বাস দিয়েছেন যে মনোনয়ন জমার শেষ তারিখের আগেই ৮০ হাজার বিচারাধীন ভোটারের তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং প্রয়োজনে বাড়ানো হবে ‘অক্সিলারি বুথ’।

একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রটি ছিল সবথেকে আলোচিত ‘হটস্পট’। তবে সেই লড়াইয়ের রেশ ভোট মিটতেই বদলে গিয়েছিল শ্মশানের নিস্তব্ধতায়।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কেন্দ্রে ভোট-পরবর্তী হিংসায় বহু ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল, যার ক্ষত এখনও টাটকা। তাই এবার আর শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা নয়; স্পর্শকাতর বুথগুলিতে আগেভাগেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি শুরু করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। নন্দীগ্রামসহ জেলার ১৬টি আসনেই শান্তি বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

পূর্ব মেদিনীপুরের যে ১৬টি আসনে আগামী ২৩ এপ্রিল ভোট গ্রহণ করা হবে সেগুলি হলো— তমলুক, পাঁশকুড়া পূর্ব ও পশ্চিম, ময়না, নন্দকুমার, মহিষাদল, হলদিয়া, নন্দীগ্রাম, চণ্ডীপুর, পটাশপুর, কাঁথি উত্তর ও দক্ষিণ, ভগবানপুর, খেজুরি, রামনগর এবং এগরা।

আগামী ৬ এপ্রিল মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন এবং ৭ এপ্রিল হবে স্ক্রুটিনি। প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে ৯ এপ্রিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর এই লড়াই কেবল জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের নয়, বরং জেলার ভাবমূর্তি রক্ষার লড়াই। প্রশাসন কি পারবে রক্তপাতহীন নির্বাচন উপহার দিতে? তার উত্তর মিলবে এপ্রিলেই।










