BREAKING NEWS :: মনীষ শুক্লার মৃত্যু অর্জুন সিংহের কাছে একটা বিশাল এবং অপূরণীয় ক্ষতি !

0
22

আনন্দ মুখোপাধ্যায় :: ২৪ ঘন্টা  লাইভ:: ৫ই অক্টোবর :: টিটাগড় :: 

:মনীষ শুক্লা হত্যার ঘটনাক্রম :

রবিবার সকালে ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে হাওড়ার পাঁচলায় গিয়েছিলেন মনীষ শুক্লা। তিনি ছিলেন ব্যারাকপুর সংসদীয় এলাকার বিজেপি যুবনেতা। হাওড়ায় দলীয় সভা সেরে অর্জুনের সঙ্গেই এ দিন ফেরেন মণীশ। তিনি টিটাগড়ে নেমে যান। অর্জুন জগদ্দলের দিকে এগিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ বাদেই মনীষ এর গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পান অর্জুন। তখনও মনীষ মারা যাননি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাত ন’টা নাগাদ টিটাগড়ের পুরানি বাজারের এপি দেবী রোডের নিজের অফিসে ঢুকছিলেন মনীষ। তখনই আততায়ীরা খুব কাছ থেকে তাঁকে গুলি করে। রক্তাক্ত মনীষকে নিয়ে যাওয়া হয় ব্যারকপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। কিন্তু অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। ততক্ষণে হাসপাতালের বাইরে বিরাট ভিড় জমিয়েছে মনীষ অনুগামীরা। সেই ভিড় ঠেলে অ্যাম্বুল্যান্স ছোটে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর খবর আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মনীষ অনুগামীরা। টিটাগড়ে পুরানি বাজারে রাস্তার ধারে যে ক’টি গাড়ি দাঁড়িয়েছিল, সেগুলিতে বেদম ভাঙচুর চলে। টিটাগড় থানার পুলিশ ও র‍্যাফ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। পুরানি বাজারে চলে আসেন ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। মনোজকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে বিজেপি কর্মীরা। পুলিশ লাঠিচার্জ করে বিজেপি কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। রাতের দিকে বিটি রোড অবরোধ হয়।

মনীষ খুনের দায় তৃণমূলের উপরেই চাপিয়েছে বিজেপি। তৃণমূলের নেতা তথা পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ অবশ্য বলেন, ‘এই ঘটনায় তৃণমূলের কেউ যুক্ত নয়। বিজেপির কোন্দলেই এই খুন।’ পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা বলেন, ‘আততায়ীদের খোঁজ পেতে আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

খুন যারাই করুক, এ নিয়ে যে শিল্পাঞ্চলের রাজনীতি ফের তপ্ত হয়ে উঠবে তা বলাই বাহুল্য। বরাবরই অর্জুন সিংয়ের বিশ্বস্ত সৈনিক হিসেবে মনীষ শুক্লার পরিচিতি। ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ তড়িৎবরণ তোপদারের সঙ্গেও তাঁর সখ্যতা কম ছিল না। যদিও অনেকে বলেন, অর্জুনের ঘনিষ্ঠ হলেও তড়িতের হয়েই ভোট করতেন মনীষ। এ নিয়ে অর্জুনের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া ছিল বলে শোনা যায়।

পরবর্তীতে ২০০৯ লোকসভা ভোটে তৃণমূল প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদীর হয়ে ময়দানে নামেন মণীশ। পরে তৃণমূলে যোগ দিয়ে ব্যারাকপুরের বিধায়ক শীলভদ্র দত্তর ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। কিন্তু অর্জুন সিং বিজেপিতে যোগ দিলে মনীষও দল বদলান। ব্যারাকপুর সংসদীয় এলাকায় বিজেপির যে কোনও কর্মসূচিতে সামনের সারিতেই দেখা যেত মনীষকে। টিটাগড়, খড়দহ, ব্যারাকপুরে তাঁর লোকবল প্রচুর। তাই শিল্পাঞ্চলে ভোট বৈতরণী পার হতে সকলকেই নাকি মনীষ এর দ্বারস্থ হতে হত।

উল্লেখ্য, বছর খানেক আগেও এই টিটাগড়েই মনীষকে খুনের চেষ্টা হয়েছিল। যদিও গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় সে যাত্রা প্রাণে বেঁচে যান। এ বার আর রক্ষা পেলেন না। বিশ্বস্ত সঙ্গীর মৃত্যুতে অর্জুন সিংয়ের শক্তি অনেকটাই কমল বলে মনে করছেন শিল্পাঞ্চলের রাজনীতির সম্পর্কে ওয়াকিবহাল মানুষজন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here