প্রকাশ তারিখ: 31/08/2026 | Desk: 24ঘন্টালাইভ
স্ত্রীকে খুনের মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট। ২০২৩ সালের জলপাইগুড়ির ঘটনায় অভিযুক্ত সুজিত দে ভৌমিককে নিম্ন আদালত ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন অভিযুক্ত। বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র বেঞ্চ মৃত্যুদণ্ডের সাজা বাতিল করে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালে। অভিযোগ, স্ত্রীর বাপের বাড়িতে বচসার সময় ধারাল অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীকে আঘাত করেন সুজিত। ঘটনাটি তাঁদের সাত বছরের সন্তান নিজের চোখে দেখেছিল বলে আদালতে উঠে আসে। স্ত্রী ঘটনাস্থলে মারা যান। তাঁর মায়ের বুকেও গভীর আঘাত লাগে এবং স্ত্রীর দিদার একটি চোখের দৃষ্টি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৫ সালের এপ্রিলে নিম্ন আদালত সুজিতকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। রায়ে হিন্দু বিবাহের সময় নেওয়া বৈদিক শপথের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ঘটনাটিকে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। এমনকী অভিযুক্তকে ‘দৈত্য’ বলেও মন্তব্য করেছিল নিম্ন আদালত। এই রায়ের বিরুদ্ধেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।

হাইকোর্ট অবশ্য মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেনি। আদালত উল্লেখ করেছে, অভিযুক্তের কোনও পূর্ব অপরাধের নজির নেই। হেফাজতে থাকাকালীন তাঁর আচরণ ভালো ছিল এবং কাউন্সেলিংও হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর এক সন্তান ও বৃদ্ধা মা তাঁর উপর নির্ভরশীল। ঘটনার আধ ঘণ্টা আগেও স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে চা খেয়েছিলেন—এই তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলেও নিশ্চিত হওয়া যায় না বলে আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে।

সারকথা, নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ খারিজ করে সুজিত দে ভৌমিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিযুক্তের মানসিক অবস্থা ও সংশোধনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে আদালত জানিয়েছে।










