Tea-Kit :: Bizpur বিধানসভায় কে তৃনমূলের যোগ প্রার্থী ? আর কেনো ?

👇समाचार सुनने के लिए यहां क्लिक करें

২৪ ঘণ্টা লাইভ/ সংবাদদাতা / রাজীব গুপ্তা :
বিশেষ প্রতিবেদন “Tea-Kit”- এর স্বাদ 

রবিবার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই নিজের নিজের প্রস্তুতি প্রকাশ করছে রাজনৈতিক দলগুলি । ইতিমধ্যেই বেশ কিছু আসনের জন্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে ফেলেছে বামপন্থী এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপি । আজ মঙ্গলবার ঘোষণা হতে চলেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা ।

ইতিমধ্যেই দলীয় কর্মীদের মধ্যে শোরগোল পড়েছে নিজের নিজের বিধানসভায় প্রার্থী ঘোষণা কে নিয়ে। প্রায় প্রায় সমস্ত জায়গায় সম্পূর্ণ হয়েছে দলের হয়ছে প্রার্থীর নাম রিক্ত রেখে দেওয়াল লিখন। আজ তারা পেয়ে যাবেন তাদের রিক্ত স্থান পূর্তি করার সুযোগ।

একইভাবে বিজপুর বিধানসভা কেন্দ্রেও দেখা যাচ্ছে প্রার্থীর নাম ঘোষণা নিয়ে শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরে অনুমান ও জল্পনার মাঝে টানটান উত্তেজনা ।

আমরা আজ আমাদের বিশেষ প্রতিবেদন Tea-Kit – এর মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে দেখব যে বীজপুর বিধানসভা কেন্দ্রে কে রয়েছেন তৃনমূলের উপযুক্ত প্রার্থী।

দীর্ঘ লড়ায়ের পর ২০১১ সালে এই রাজ্যে ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে তৃনমূল কংগ্রেস এর দ্বারা স্থাপনা হয়েছিল “মা মাটি মানুষের” সরকার । অবশ্যই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কঠিন লড়াই এর মধ্যে অন্যতম সহযোগী ছিলেন পার্টির তৎকালীন সেকেন্ড ইন কমান্ড এবং বাংলার চাণক্য মুকুল রায় ।

তার প্রতিদান স্বরূপ Bizpur বিধানসভায় উপযুক্ত প্রার্থী মৃণাল কান্তি সিংহ রায় কে উপেক্ষা করে তার পুত্রকে এখান থেকে টিকিট দেয় দল |অবশ্যই পিতার কৃতিত্বে এখান থেকে প্রার্থী হয় মানুষের আশীর্বাদে বিধায়ক হলেন মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায়।


আগামী ২০১৫ পুরসভা তে চেয়ারম্যান কিংবা ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে নিশ্চিত ভাবে তৃণমূল এর প্রথম পছন্দ ছিলেন আবুদা| কিন্তু তার আগেই আচমকা তার উপর এক অজ্ঞাত প্রাণঘাতি হামলা হয়, যা আজ ও বিতর্ক এবং তদন্তের বিষয়।

২০১৫ সালে চিকিৎসার দরুন প্রয়াত হলেন Bizpur এর প্রাণ পুরুষ এবং মুকুল রায়ের রাজনৈতিক গুরু মৃণাল কান্তি সিংহ রায় ওরফে আবূ দা| আবূ দা র শেষ যাত্রায় কোনো বড়ো নেতা বা তার নিজের শিষ্য মুকুল রায় কিংবা তার বিধায়ক পুত্র কেউ তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে না আসলেও
Bizpur এর প্রতিটি গলি ও পাড়া থেকে ভরা চোখে রাস্তায় নেমে ছিল হাজার হাজার সধারণ মানুষের ঢল। সেই দৃশ্য বুঝিয়ে দিয়েছিল যে বাস্তবে কি ছিল আবূ দা র জনপ্রিয়তা ।

যাই হোক আবু দা প্রায়ত হওয়ায় ২০১৬ তে পুনরায় বিধান সভার টিকিট পেলেন শুভ্রাংশু এবং পুণরায় জিতলেন । তবে ২০১৭ থেকে বদলে যায় Bizpur এর রাজনৈতিক চিত্র । তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন মুকুল রায় ।

২০১৮ সালে নৈহাটির গৌরীপুরে দিলিপ ঘোষের হাত ধরে বিজেপি তে যোগদান করলেন সুবোধ অধিকারী,
তখন অবশ্যই এক সাধারণ তৃণমূল কর্মী মাত্র ছিলেন সুবোধ ।

এর পর আসে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন ।এক দিকে বীজপুরে বিজেপি শিবির থেকে সামনের সারিতে ছিলেন মিস্টার Cool সুবোধ এবং অন্যদিকে তৃণমূল শিবিরের হাল ধরেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক শুভ্রাংশু । এই নির্বাচনা ব্যারাকপুর লোকসভা সিট প্রায় ১৫০০০ ভোটে জয়লাভ করে বিজেপি|

বিশ্লেষণ করে দেখা গেলো যে শুভ্রাংশু রায়ের নেতৃত্বের Bizpur থেকে প্রায় ৭৮০০ ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি যা অর্জুন সিং এর মোট Lead এর ৫২% | এর পর ক্ষমতা চলে যাচ্ছে বুঝে বিধায়ক পদ ত্যাগ না করেই, BJP তে যোগদান করলেন শুভ্রাংশু ।

 

বিজেপি তে গিয়েই তার সুর বদল । Bizpur এ তৃণমূল এর পতাকা ধরার লোক থাকবে না বলে ঘোষণা করলেন সদ্য বিজেপি তে যোগদানকারী বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় । তার পর কাঁচরাপাড়ায় এসে আক্রান্ত এবং হেনস্থার শিকার হলেন তৃনমূলের উচ্চ নেতৃত্ব ।

এর পর ১৪ জুন কাঁচরাপাড়া তে সভা করেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী, সেই মঞ্চে সুবোধ অধিকারী কে দলে ফিরিয়ে নিয়ে Bizpur সহ ব্যারাকপুর দমদম এলাকার দায়িত্ব দিলেন নেত্রী । এর পর থেকে টানা ১০০ দিনের মধ্যে দখল হয় যাওয়া সমস্ত ক্লাব থেকে শুরু করে দলীয় কার্যালয়, পঞ্চায়েত ও পুরসভা গুলি পুনরুদ্ধার করেন সুবোধ ।

এর পর ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে ছিল ঠিক উল্টো ছিল পিকচার ।
এবারে BJP তরফ থেকে শুভ্রাংশু এবং তৃনমূলের তরফ থেকে প্রার্থী ছিলেন সুবোধ অধিকারী।

এবার পাল্টে গেলো নির্বাচনের ফলাফল ও ।

মানে,
২০১৯ এ ৭৮০০ ভোটে হেরে যাওয়া Bizpur কে ১৩৩০০ ভোটে জিতিয়ে ফোটালেন জোড়াফুল । ২০২১ এ হেরে গিয়েই আবার ভোল বদল হলো রায় বাবুর, চট জলদি আবার ফিরে এলেন তৃণমূলে ।

এর পর দেখা গেলো তৃণমূল এসেও দলীয় বিধায়ক সুবোধ অধিকারীর দ্বারা অযোজিত কোনো অনুষ্ঠানে যেতেন না তিনি।
শুধু তাই নয় সুবোধের বিরুদ্ধে গোপনে বাঁধেন আলাদা গোষ্টি ।

শুভ্রাংশু রায় Bizpur এ তৃণমূলে থাকার ইফেক্ট দেখা গেলো ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে ।
১৩৩০০ লিড নেমে গেলো ৯০০০ এ| এই বিশ্লেষণে লক্ষ করা গেলো যে ২০১৯ থেকেই যখন যখন Bizpur বিধানসভায় তৃনমূলের হয় সক্রিয় ছিলেন শুভ্রাংশু , তখন ঘটেছে দলের অবনতি ।

তাই এই বিধানসভায় দুর্দিনের লড়াকু সৈনিক সুবোধ কে উপেক্ষা করে কি দলীয় কর্মী এবং সাধারণ মানুষের মন জয় করতে পারবে তৃণমূল ?এটাই এখন বড় প্রশ্ন ।

কারন দলের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত ভাবে মাথা পেতে মেনে নেবে নিচু তালার কর্মীরা । যারা ২০১৯ সালে শুভ্রাংশু রায়ের কার্যালয়ের সামনে ঘাড় ধাক্কা বা মাটি তে ফেলে মার খেয়েছিলেন, তারাও আজ দলের নির্দেশে সেই শুভ্রাংশু রায়ের সাথে মিছিলে না চাইলেও ঘুরে বেড়ালেন ।

 

তবে নিজের দক্ষতায় জননেতা হয় ওঠা যে সুবোধ ২০১৯ সালে দলের চরম দুর্দিনে কর্মীদের কে ঘরে আর বেদখল হয়ে যাওয়া ক্লাব ও দলীয় কার্যালয়ে গুলি পুনরুদ্ধার করলো । দলীয় কর্মীদের মধ্যে আবারো লড়াইয়ের ময়দানে নামতে সাহস যোগালো ।
যে সুবোধ এর সময় উন্নয়নের নজির পেশ করলো কাঁচরাপাড়া ও হালিশহর পৌর পরিসেবা । যে সুবোধ নির্বাচনের বাহিরে বিজপুরের প্রায় প্রতিটি মানুষের সাথে তার শুখ দুঃখে অন্ততঃ একবার অবশ্যই ব্যাক্তিগত সাক্ষাৎ করেছেন ।

যে সুবোধ বীজপুরের আবেগ আবু দা র নামে একটি রাস্তার নামকরণ করালেন, এবং শহরের একাধিক মুখ্য স্থানে আবু দা র মূর্তি বসালেন । যে সুবোধ নিজের পাঁচ বছরের কার্যকালে নিজের জন্য একটা মুদিখানার দোকান পর্যন্ত খুলতে পারেন নি ।
আরও অনেক গুণের গুণী| এই ধরনের দলের এক শশক্ত সৈনিক কে কি সহজে উপেক্ষা করে দেবে দল ?

 

তবে তৃণমূলের জন্মলগ্নের থেকে যে ভাবে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের ত্যাগ এর নিদর্শন পেশ করেছিলেন মুকুল রায়, তার উত্তর্ষারি হিসেবে অবশ্যই একটি সম্মানজনক ব্যবহার এর আশা করতেই পারেন শুভ্রাংশু রায় ।
হয়তো নাদিয়া জেলার কোনো একটি সিট থেকে তাকেও প্রার্থী করে তার প্রয়াত পিতা কে শ্রদ্ধা জানাবে দল ।

কিন্তু সমস্ত দিক থেকে দেখলে বর্তমানে সুবোধ অধিকারী হলেন একজন উপযুক্ত প্রার্থী বলেই মনে করছেন এখানকার পার্টি কর্মীরা ।

Sampriti Bose
Author: Sampriti Bose

বিভিন্ন ধরনের খবরের আপডেট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করুন।

Leave a Comment

और पढ़ें