প্রকাশ তারিখ: 23/04/2026 | Desk: 24ঘন্টালাইভ
কলকাতা হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের ৭২ ঘণ্টার বাইক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে। আদালত জানিয়েছে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অযথা সমস্যা তৈরি করছে। কমিশনের উদ্দেশ্য ছিল ভোট চলাকালীন বাইক ব্যবহার করে ভুয়ো ভোট বা গণ্ডগোল ঠেকানো। কিন্তু আদালতের মতে, এই পদক্ষেপ যুক্তিসঙ্গত নয়।

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বাইক ব্যবহার নিয়ে বহুবার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বাইক ব্যবহার করে ভোটারদের ভয় দেখানো বা বুথ দখলের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন কমিশন তাই ভোটের আগে বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবে আদালত মনে করছে, এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের স্বাধীন চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কমিশনের উদ্দেশ্য সঠিক হলেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল আরও কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া। যেমন—কড়া নজরদারি, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন বা প্রযুক্তি ব্যবহার। বাইক নিষেধাজ্ঞা সাধারণ মানুষের জন্য অযথা চাপ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত ভোটারদের আস্থা কমাতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই লিখেছেন, বাইক তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, অফিস বা স্কুলে যেতে সমস্যা হচ্ছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, কমিশনের উদ্দেশ্য ভালো হলেও বাস্তবায়ন ভুল হয়েছে।

কলকাতা হাইকোর্টের ভর্ৎসনা প্রমাণ করল, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত সবসময়ই যুক্তিসঙ্গত হতে হবে। ভোটের স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি, তবে সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা ও দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত না করেই তা নিশ্চিত করতে হবে।









