দিল্লিতে কোন ঝড়ে উড়ে গেলেন মোদী অমিত শাহ – বিজেপির নিশান মুক্ত মুকুল আবাস ১৮১ নং সাউথ অ্যভিনিউয় !!!

0
349

রাজীব গুপ্তা :: ২৪ ঘন্টা লাইভ :: ২৫শে জুলাই :: কাঁচরাপাড়া :: কিছুদিন আগে মুকুল রায় দিল্লি যান। স্থানীয় কিছু ওয়েব পোর্টাল সেটিকে নিয়ে বেশ ফলাও করে লিখেছিলো যে মুকুলবাবু নাকি দিল্লিতে সোজা বিমান বন্দর থেকে নেমে হনুমানজির মন্দিরে পুজো দিয়ে পৌঁছে যাবেন বিজেপির সদর দপ্তরে। নাকি তিনি রাজ্যসভার সাংসদ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য হয়েই ফিরছেন কলকাতায়।

সেদিন আমরা ২৪ ঘন্টা লাইভ এ লিখেছিলাম যে যাঁরা এটা ভাবছেন তাঁরা মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন। এবার দিল্লি থেকে মুকুল বাবুকে খালি হাতেই ফিরতে হবে। তার কারণ হিসাবে আমরা কিছু যুক্তির অবতারণা করেছিলাম। আমাদের বক্তব্য ছিল যেহেতু এখন বিজেপির দৃষ্টি বাংলা তো বটেই কিন্তু হাইকমান্ড রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে কোনোভাবেই বিরক্ত করতে চাইবেন না অতএব মুকুলবাবুকে ব্যাক ফুটেই থাকতে হবে, ফিরতে হবে শূন্য হাতেই। সেদিন সেটাই হয়েছিল।

আর আজ কি হলো ? আপনারা দেখলেন মুকুলবাবু দিল্লির বিজেপি দপ্তরে মিটিং থেকেই বলা যায় বিরক্ত  হয়েই বেরিয়ে এলেন।
দিল্লিতে থেকেও পশ্চিমবঙ্গের ভোট-প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক এড়িয়ে শুক্রবার কলকাতায় ফিরে গেলেন তিনি। সূত্রের বক্তব্য, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে মতান্তরের জেরেই কলকাতার উড়ান ধরলেন মুকুল। পাশাপাশি, এটাও মনে করা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে তাঁর চাহিদা মাফিক কোনও পদ পাওয়ার সম্ভাবনা কমে আসায় তিনি কিছুটা হতাশও। মুকুল নিজে অবশ্য এ দিনও কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে বলেছেন, ‘‘কোনও জল্পনার সুযোগ নেই। আমি চোখের চিকিৎসার জন্য তাড়াতাড়ি ফিরে এসেছি।’’

এদিকে ইতিমধ্যেই কিন্তু সাউথ অ্যভিনিউয়ের ১৮১ নম্বরে মুকুল রায়ের দিল্লির বাসভবন থেকে সরে গিয়েছে বিজেপির যাবতীয় প্ল্যাকার্ড ও পোস্টার। গেটের পাশে দেওয়াল জুড়ে এত দিন ছিল নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহদের ছবি-সম্বলিত প্ল্যাকার্ড। কিন্তু এখন খাঁ খাঁ করছে। মুকুল-ঘনিষ্ঠদের দাবি, ঝড়-জলে উড়ে গিয়েছে সব! কিন্তু আদতে দিল্লিতে তো সেরকম কোনো ঝড় হয়নি যে ওই সব বিশাল বিশাল হোর্ডিং মুকুল বাবুর দিল্লি নিবাস থেকে উড়ে যাবে ! তাহলে দিল্লির রাজনৈতিক মহল কোন ঝড়ের কথা বলছেন ?

বিজেপিতে কি গুরুত্ব কমছে মুকুলের? তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে দিলীপবাবু বলেন, “আমাদের দলের গুরুত্বটাই আসল, কোনও ব্যক্তির নয়। দল যাকে যে ভাবে ব্যবহার করার প্রয়োজন মনে করে, তাকে সেই ভাবে কাজে লাগায়।’’

সূত্রের খবর, মুকুল এই বার্তাও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পৌঁছেছিলেন যে, তিনি ভোটের আগে রাজ্যের সংখ্যালঘুদের যতটা সম্ভব মন জয় করার চেষ্টা করবেন এবং তাঁদের তৃণমূল শিবির থেকে বের করে আনতে পারবেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও আবেদনেই ইতিবাচক সাড়া আসেনি শাহ শিবিরের থেকে। তবে সূত্রের মতে, বিজেপির রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় স্তরে নেতৃত্বের সঙ্গে সার্বিক তিক্ততা বাড়লেও এবং তৃণমূলের সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে যোগাযোগ রাখলেও নিজের ইচ্ছামাফিক দলত্যাগ করে অন্য দলে যোগ দেওয়া মুকুলের পক্ষে সম্ভব নয়। তাঁর ঘাড়ের উপরে ঝুলছে সিবিআই-এর খাঁড়া। তাহলে অতঃপর কি !!!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here