প্রকাশ: ১৮/০৮/২০২৫ । ডেস্ক: ২৪ ঘন্টা লাইভ: রাশিয়া এবং ভারতের সম্পর্ক বহু দশক ধরে এক অনন্য কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার উদাহরণ। সোভিয়েত আমল থেকেই রাশিয়ার উন্নত অস্ত্রশস্ত্র ভারতীয় সেনার ভরসা হয়ে এসেছে। এবার আলোচনায় উঠে এসেছে রাশিয়ার সর্বাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান Su-57 Felon, যা আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তিকে এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

পাকিস্তান ও চীনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসন, সীমান্তে টানাপোড়েন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার নতুন সমীকরণে এই সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে। Su-57 শুধু স্টেলথ ক্ষমতাসম্পন্ন নয়, এর রয়েছে সুপারসনিক গতি, অত্যাধুনিক রাডার সিস্টেম, বহুমুখী অস্ত্র বহনের ক্ষমতা এবং উন্নত মিসাইল প্রযুক্তি। বর্তমানে চীনের হাতে রয়েছে J-20 এবং পাকিস্তানও চীনা সহযোগিতায় নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান পাচ্ছে। এই অবস্থায় ভারত যদি রাশিয়ার Su-57 পায়, তবে আকাশ প্রতিরক্ষা কৌশলে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।

যদিও এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবুও রাশিয়ান মিডিয়া ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে মস্কো ভারতের মতো ‘বিশ্বস্ত মিত্র’-কে এই আধুনিক যুদ্ধবিমান সরবরাহ করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আগ্রহী, কারণ বর্তমান ফ্লিটে থাকা Su-30MKI, Rafale এবং Tejas-কে সম্পূরক হিসেবে ভবিষ্যৎ যুদ্ধনীতিতে একটি ৫ম প্রজন্মের ফাইটার প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয় উপমহাদেশে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক আধিপত্য রুখতে এ ধরনের প্রযুক্তি ভারতের হাতে আসা সময়ের দাবি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এই চুক্তি বড় প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ Su-57 এখনো সীমিত কয়েকটি দেশের কাছেই উপলব্ধ। তাই ভারত যদি এটি হাতে পায়, তবে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ছাড়াও কূটনৈতিক দিক থেকেও একটি শক্ত বার্তা দেবে। তবে এর বিপরীতে রয়েছে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ—প্রতি বিমানের দাম, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের খরচ ভারতের জন্য বড় দায়িত্ব হবে। তা সত্ত্বেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে চলেছে বলেই অনুমান করা হচ্ছে।










