‘বিয়ে মানেই নিয়ন্ত্রণের লাইসেন্স নয়’, বাপের বাড়ি যেতে অনুমতি কেন? বড় পর্যবেক্ষণ কর্নাটক হাইকোর্টের

👇समाचार सुनने के लिए यहां क्लिक करें

প্রকাশ তারিখ: 03/09/2026 | Desk: 24ঘন্টালাইভ

বিয়ের পর একজন মহিলার নিজের বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে বা বাপের বাড়ি যেতে স্বামীর কিংবা শ্বশুরবাড়ির অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে কর্নাটক হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, বিয়ে কখনও কোনও মহিলার স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ, নির্দেশ বা দখল করার লাইসেন্স হতে পারে না।

ঘটনার সূত্রপাত একটি খোরপোষ সংক্রান্ত মামলা থেকে। সতীশ নামে এক ব্যক্তি পারিবারিক আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কর্নাটক হাইকোর্টে আবেদন করেন। পারিবারিক আদালত তাঁর স্ত্রীকে মাসে ৫ হাজার টাকা এবং মেয়েকে ৪ হাজার টাকা করে খোরপোষ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। ওই টাকার অঙ্ক কমানোর আবেদন জানিয়েছিলেন স্বামী। তাঁর দাবি ছিল, স্ত্রী নিজের ইচ্ছায় শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন এবং পরিবারের কোনও দায়িত্ব পালন করেননি। তিনি নিজে কুলির কাজ করে সংসার চালান বলেও আদালতে জানান।

অন্যদিকে, স্ত্রী আদালতে অভিযোগ করেন যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে হেনস্থার শিকার হয়েছেন। তাঁর দাবি, স্বামী মদ্যপান করে তাঁকে হেনস্থা করতেন। স্ত্রী বারবার বাপের বাড়ি যেতেন—স্বামীর পক্ষ থেকে এমন অভিযোগও করা হয়েছিল। এই বক্তব্যের পরই আদালত প্রশ্ন তোলে, একজন ভারতীয় মহিলাকে নিজের বাবা-মায়ের বাড়িতে যাওয়ার জন্য কেন শ্বশুরবাড়ির অনুমতি নিতে হবে?

বিচারপতি চিল্লাকুর সুমালথা আরও বলেন, কোনও স্বামী স্ত্রীকে ঘরের কাজ বা শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করতে বাধ্য করতে পারেন না। বাবা-মায়ের দেখভালের দায়িত্ব ছেলে বা মেয়ের হতে পারে, কিন্তু পুত্রবধূ বা জামাইয়ের ক্ষেত্রে তা বাধ্যতামূলক নয়। ঘরের কাজও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভাগ করে নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছে আদালত।

শেষ পর্যন্ত স্বামীর আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। পারিবারিক আদালতের খোরপোষের নির্দেশে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন মনে করেনি আদালত। এই পর্যবেক্ষণে মূলত বিবাহিত মহিলার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং নিজের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের বিষয়টি সামনে এসেছে। আদালতের বক্তব্য, বিয়ের সম্পর্ক থাকলেও ব্যক্তিস্বাধীনতা নষ্ট হয়ে যায় না।

Pralay Banerjee
Author: Pralay Banerjee

Leave a Comment

और पढ़ें