বাংলাদেশে ফিরতে অনড় শেখ হাসিনা! ‘পরিণতি জানি, তবু সিদ্ধান্ত বদলাব না’, দিল্লির পরামর্শেও অনড়

👇समाचार सुनने के लिए यहां क्लिक करें

প্রকাশ তারিখ: 03/09/2026 | Desk: 24ঘন্টালাইভ

বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে নারাজ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর কাছে ভারতীয় কূটনৈতিক মহলের তরফে পরিস্থিতি বিবেচনা করে আপাতত বাংলাদেশে না ফেরার পরামর্শ দেওয়া হলেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন আওয়ামি লীগ নেত্রী। তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশে ফিরে গেলে কী পরিণতি হতে পারে, তা তিনি জানেন। তবুও সিদ্ধান্ত বদল করবেন না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৯ অগস্ট হাসিনার সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের দুই অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক দেখা করেন। তাঁদের তরফে তাঁকে এখনই বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে জোর না দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। কারণ, দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু সেই পরামর্শ মানতে রাজি হননি হাসিনা। তিনি জানিয়েছেন, সমস্ত সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনা করেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বুধবার হিন্দুস্তান টাইমস-কে দেওয়া টেলিফোনিক সাক্ষাৎকারেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন হাসিনা। তিনি জানান, বাংলাদেশে ফিরবেন এবং যে সময়ের কথা বলেছেন, সেই সময়ের মধ্যেই কোনও একদিন দেশে ফিরবেন। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকা তাঁর ইচ্ছা নয় বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, দেশে ফেরার জন্য এটাই উপযুক্ত সময়। অন্যদিকে, ভারতীয় অবস্থান হল—হাসিনা ফিরবেন কি না, তা নয়; বরং এই মুহূর্তে তাঁর ফেরা কতটা নিরাপদ ও উপযুক্ত, সেটিই মূল প্রশ্ন।

 

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলার মুখোমুখি হতে হবে। তাঁর বিরুদ্ধে মোট ৬৬৩টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪৫৩টি খুনের মামলা। গণহত্যার অভিযোগ নিয়েও বিশেষ ট্রাইবুনালে বিচারপ্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই তাঁকে প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত নিয়ে ভাবতে পারে ভারত—এমন ইঙ্গিতও রয়েছে প্রতিবেদনে।

 

হাসিনার দেশে ফেরার সিদ্ধান্তের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও জড়িয়ে রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামি লীগকে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় রাখতে তাঁর দ্রুত দেশে ফেরা জরুরি বলে মনে করেন তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের অনেকে।

পাশাপাশি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর সমর্থকদের একাংশের মধ্যে পুরনো নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠছে। ফলে ভারতীয় পরামর্শ সত্ত্বেও হাসিনার প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নটি আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

Pralay Banerjee
Author: Pralay Banerjee

Leave a Comment

और पढ़ें