প্রকাশ তারিখ: 29/08/2026 | Desk: 24ঘন্টালাইভ
‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ভয় দেখিয়ে বিধাননগরের এক বাসিন্দার কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে তদন্তভার CBI-এর হাতে তুলে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। অভিযোগকারী মিহির কুমার রায়ের দাবি, টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা, পুলিশ এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরের আধিকারিক পরিচয় দিয়ে তাঁকে ফোন করা হয়েছিল। গ্রেফতার ও আইনি পদক্ষেপের ভয় দেখিয়ে টাকা দিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতারকেরা মিহির কুমার রয়কে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ১ কোটি ৭৪ লক্ষ ১০ হাজার ৫০০ টাকা পাঠাতে বাধ্য করে। বিষয়টি নিয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় মামলা দায়ের হয়েছিল। এরপর ঘটনাটি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া এগোয় এবং শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্ট তদন্তের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

মামলাটি বিচারপতি কৌশিক চন্দের আদালতে ওঠে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই প্রতারণার প্রভাব শুধু পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে সর্বভারতীয় যোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণেই বিষয়টি CBI-এর হাতে তদন্তের জন্য দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেছে আদালত। ডিজিটাল অ্যারেস্ট সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশিকাকেও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ প্রতারণায় সাধারণত ফোন বা অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যমে নিজেকে পুলিশ, তদন্তকারী সংস্থা কিংবা সরকারি আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগ সামনে আসে। গ্রেফতার বা মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়াই এই ধরনের প্রতারণার অন্যতম পদ্ধতি। মিহির কুমার রায়ের মামলায় বিপুল অঙ্কের টাকা হাতানোর অভিযোগ থাকায় আদালতের নির্দেশ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

সারকথা, প্রায় ১.৭৪ কোটি টাকার ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ প্রতারণার অভিযোগে এবার CBI তদন্ত করবে। কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর মামলার তদন্ত আরও বিস্তৃত পরিসরে এগোতে পারে। প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করাই এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য।










