দ্বাদশে ৯৮.২ নম্বর পাওয়া রাজমিস্ত্রীর ছেলের স্বপ্নপূরণ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে

0
63

আনন্দ মুখোপাধ্যায় :: ২৪ ঘন্টা লাইভ :: ১৭ই,সেপ্টেম্বর :: নয়াদিল্লি :: অনুরাগ তিওয়ারি। উত্তর প্রদেশের এক কৃষকের ঘরে জন্ম। সংসারের ব্যয়ভার মেটাতে বাবা মাঝেমধ্যে রাজমিস্ত্রির কাজও করেন। সিবিএসইয়ের (ভারতের দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা) ক্লাস দ্বাদশে ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ নম্বর পেয়ে এ বছর উত্তীর্ণ হয়েছেন। পড়তে যাচ্ছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে কোনো খরচ ছাড়াই, মানে ফুল স্কলারশিপ নিয়ে পড়বেন তিনি। পাঠকের জন্য তাঁর পথচলার গল্পটি তুলে ধরা হলো।

সাধারণ ঘরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা হলেও অনুরাগ তিওয়ারি আসলে কোনো সাধারণ ছেলে নন। উত্তর প্রদেশের লখিমপুর জেলার ছোট গ্রাম সারাসানে জন্ম। ১৩ জুলাই ফল ঘোষণার পরে গ্রামের সবাই একটু অবাক। সবাইকে আরও অবাক করেছেন গবেষণার জন্য বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে যাচ্ছেন বলে।মানবিক বিভাগে পড়ুয়া অনুরাগ ইতিহাস ও অর্থনীতিতে পেয়েছেন পুরো নম্বর, ১০০। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ১ কম পেয়েছেন (৯৯) ইতিহাস ও অর্থনীতির চেয়ে। ইংরেজিতে ৯৭ আর অঙ্কে ৯৫।

প্রান্তিক কৃষকের ছেলে অনুরাগ তিওয়ারি সিবিএসইতে অবিশ্বাস্য ফল ছাড়াও তাঁর গ্রামের প্রথম ব্যক্তি, যিনি ভারতের বাইরে পা রাখতে চলেছেন। আর নিজ যোগ্যতার কারণে ১০০ শতাংশ বৃত্তি নিয়ে বিশ্বের একটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে যাবেন। তবে করোনার কারণে তাঁর যাওয়াটা পিছিয়েছে।

অনুরাগ তিওয়ারির পড়াশোনা উত্তর প্রদেশের বিদ্যাজ্ঞান একাডেমিতে। শিব নাদার ফাউন্ডেশনের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সুবিধা বঞ্চিত পরিবার থেকে আসা। তাঁদের অনেকেই সফল হয়ে বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন।

বিদ্যাজ্ঞান একাডেমিতে পড়াশোনার সাতটি বছর কাজে লাগানোর চেষ্টা করে গেছেন অনুরাগ তিওয়ারি। ভবিষ্যতের ভালো কিছু করার আশায় কোনো সময় নষ্ট না করা কৃষকের ছেলেটির স্বপ্ন পড়া শেষে ভারতেই ফিরবেন। তিনি কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও গণিত নিয়ে পড়বেন। ভারতে ফিরে নিজের মতো অন্য সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ তৈরিতে কাজ করবেন। তারা যেন অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে, চান সেই সুযোগ করে দিতে।

বোর্ড পরীক্ষাগুলোর জন্য নিজের তৈরি স্টাডি প্ল্যান অনুসরণ করেছিলেন অনুরাগ তিওয়ারি। ‘আমি কোথায় পড়াশোনা করছি, সেই পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ নয়, তবে পড়ার পরিকল্পনাটা করা জরুরি,’ বলছিলেন অনুরাগ। দিন শুরু ভোর সাড়ে চারটার পরে। সব ক্লাসেই উপস্থিত থাকতেন। সময়ের কাজ সময়ে শেষ করে ঘুমাতে যেতেন রাত ১১টার পরে। তিনি বলছিলেন, ‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্কুলে কোনো অনুষ্ঠান থাকলে বা বন্ধুরা পড়ায় সহায়তা চাইলে বা মাঝেমধ্যে পড়াশোনা করতে ইচ্ছা না করলে আমার পরিকল্পনাগুলো পরিবর্তন করতাম।’ মজার ব্যাপার হলো, বেশির ভাগ শিক্ষার্থী পরীক্ষার আগে জোরকদমে পড়াশোনা করেন। অনুরাগের জন্য বিষয়টি ছিল একটু আলাদা।

বোর্ড পরীক্ষা শুরুর মাসখানেক আগে চাপ কমিয়ে পড়ার রুটিন তৈরি করেন অনুরাগ তিওয়ারি। এর কারণ, মানসিক চাপ কমিয়ে বেশি বেশি ঘুম। ফাইনাল বোর্ড পরীক্ষার বিরতির মধ্যেও ক্রিকেট খেলেছেন। কোনো পরীক্ষায় দু-তিন দিন বিরতি থাকলে তিনি ক্রিকেট খেলা ছাড়াও স্কুল লাইব্রেরিতে নিয়মিত বই পড়তেন। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর গানেও সময় কাটাতেন। অন্যকে কীভাবে পড়া শেখানো যায়, তার একটি দুর্দান্ত উপায় বের করা অনুরাগ বলেন, ‘কখনো কখনো বন্ধুদের পড়ায় সাহায্য করতাম, আর এটি আমাকে একটি বিষয় আরও ভালোভাবে জানতে সাহায্য করেছিল।’ শুধু যে বন্ধুদের সাহায্য করতেন তা নয়, নিতেনও। বন্ধু বা শিক্ষক, যাঁর কাছে যখন প্রয়োজন, পড়ায় সাহায্য নিয়েছেন। ক্লাসে কোনো কিছু না বুঝলে বন্ধুদের সহায়তা নিতেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here