২৪ ঘণ্টা লাইভ সংবাদদাতা/ অর্ঘ চন্দ্র/ ব্যারাকপুর / ২ সেরা জুলাই ২০২৫: গতকাল পয়লা জুলাই রাজ্যে সর্বত্র পালিত হলো চিকিৎসা দিবস । তবে এই বিশেষ দিনেও টাকার এভাবে চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যু বরণ করে নিতে হলো এক অসুস্থ বৃদ্ধ বাঙালি কে ।

জানা গেছে রবিবার হৃদরোগে আক্রান্ত নিজের পিতা দীনেশ দাস কে প্রথমে বারাকপুর B N Bose হাসপাতালে নিয়ে যান পুত্র কার্তিক দাস ।

সেখান থেকে তাঁকে রেফার করা হয় সাগর দত্ত জেনারেল হসপিটালে । তবে উভয় সরকারি হাসপাতাল চিকিৎসা করতে রাজি না হওয়ায় শেষ মেষ বাধ্য হন বেসরকারি হাসপাতাল যেতে ।

কল্যাণী বারাকপুর এক্সপ্রেসওয়ে উপর ওয়ারলেস গেট লাগোয়া সারদা মাল্টি স্পেশাল হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয় দীনেশ বাবু কে ।
তবে ভর্তির পর থেকেই মঙ্গলবার সন্ধ্যে অব্দি রুগী সুস্থতার দিকেই এগচ্ছে বলে জানায় হাসপাতাল কতৃর্পক্ষ। কিন্তু সান্ধ্য বেরোতেই বদলে যায় গোটা পরিস্থিতি । সন্ধ্যেবেলা হঠাৎ কার্তিক দাস কে হসপিটালে ডেকে জানানো হয় তার বাবার শারীরিক অবস্থা ভালো নয় এবং দ্রুত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন লক্ষ্যাধিক টাকা ।

তড়ি ঘড়ি ব্যবস্থা করে হাসপাতালে ৩০ হাজার টাকা জমা করেন কার্তিক বাবু । কিন্তু এতে অসন্তোষ প্রকাশ করে হাসপাতাল কতৃর্পক্ষ শুধু তাই নয়, বড় অঙ্কের টাকা না পেয়ে সেই সময় অমানবিকতার চরম নজির পেশ করে তারা ।

কার্তিক বাবুর অভিযোগ অনুজাই শ্বাস কষ্টে বেহাল তার পিতার অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেওয়া হয় । অনেক বিনতি করার পরেও কোনও মানবিকতা দেখাইনি সেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ।
রীতি মতন শ্বাসকষ্টের জেরে চোখের সামনে প্রাণ ত্যাগ করে দিলেন দীনেশ বাবু বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন কার্তিক দাস ।

কার্তিক বাবুর সম্ভবত একজন বিজেপি সমর্থক । আর্থিক প্রয়োজনীয়তার কথা যেনে সেই রাতেই হাসপাতালে পৌঁছন বিজেপি নেতা ও আইনজীবী কৌস্তভ বাগছি । কিন্তু ততক্ষণ অনেক দেরি হয় যায় । কারণ এর আগেই প্রাণ ত্যাগ করে পরলোক গমন করে যান কার্তিক বাবুর বাবা । বিজেপি নেতা কৌস্তব বাগচীর দ্বারা খবর পেয়ে হসপিটালে গেলেন জেলা সভাপতি মনোজ ব্যানার্জি । শুধুমাত্র টাকার লোভের জন্য তার পিতার প্রাণ কেড়ে নিলো হাসপাতাল বলে অভিযোগ করলেন কার্তিক দাস ।

এই জঘন্য ঘটনা তখন ঘটল যেদিন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর বিধান চন্দ্র রায়ের জন্মদিন উপলক্ষ্যে পালন করা হচ্ছিল চিকিৎসা দিবস ।
বিশ্বস্ত সূত্রের মারফত কিছু অর্থের বিনিময় এই মামলা এখানেই মিটিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেয় হসপিটাল কর্তৃপক্ষ, কিন্তু তা প্রত্যাখান করেন কার্তিক বাবু এবং থানায় হাসপাতালের এই নক্কারজনক নিন্দনীয় অপরাধের বিরুদ্ধে FIR করেন তিনি ।
নিশ্চই বিষয় টি তদন্ত করে দেখবে পুলিশ কিন্তু প্রশ্ন হলো যে দু দুটি সরকারি হাসপাতাল থাকার সত্ত্বেও কোনও জরুরই অবস্থায় সেখানে ঠাঁই পাচ্ছেন না সাধারণ ও গরিব মানুষ । এই বিষয় কি আদৌ খুঁটিয়ে দেখবেন রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
না কি এভাবেই এক দিকে স্বাস্থ্য পরিষেবার নামে লুট চালাতে থাকবে বেসরকারি সংস্থা আর প্রাণ হারাবে আশায় মানুষ ।










